সোমবার, ১৭ জুন ২০২৪, ১২:৩৪ পূর্বাহ্ন
সদ্যপ্রাপ্ত খবর :
অটিস্টিক শিশুদের আবাসন ও কর্মসংস্থান করবে সরকার   ||   নারীর প্রতি যৌন ও পারিবারিক সহিংসতা ক্রমাগতই বাড়ছে   ||   শান্তিগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের নব-নির্বাচিত সভাপতি হলেন মৃত্যুঞ্জয়ী ছাত্রনেতা ছদরুল ইসলাম  ||

২২ বছর পর বিরল গোলাপি হ্যান্ডফিশের দেখা মিললো অস্ট্রেলিয়ায়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক / ১৯৯ বার পঠিত:
আপডেট সময় : শুক্রবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০২১
২২ বছর পর বিরল গোলাপি হ্যান্ডফিশের দেখা মিললো অস্ট্রেলিয়ায়

সাধারণ মাছের মতো ফুলকা, আঁশ এবং সাতটি পাখনার সঙ্গে এই প্রাণীর দেহে দেখা যায় একজোড়া হাতের মতো অঙ্গ। এ দুটি অঙ্গের সাহায্যে সমুদ্রতলে চলাফেরা করে তারা। এ জন্যই হয়তো নাম দেওয়া হয়েছে হ্যান্ডফিশ। বিরল প্রজাতির একটি গোলাপি হ্যান্ডফিশের দেখা মিলেছে দীর্ঘ ২২ বছর পর। অস্ট্রেলিয়ার তাসমানিয়ান উপকূলে এর সন্ধান পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছেন গবেষকরা। এর আগে সবশেষ গোলাপি হ্যান্ডফিশ দেখা মিলেছিল ১৯৯৯ সালে। গবেষকরা এটিকে মোট চারবার দেখতে পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। প্রকৃতির সঙ্গে টিকে থাকার লড়াইয়ে প্রায় হেরে যাওয়ায় গোলাপি হ্যান্ডফিশকে বিপন্ন প্রজাতির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার গবেষকরা জানিয়েছেন, তারা আবারও গোলাপি হ্যান্ডফিশের দেখা পেয়েছেন। চলতি বছরের শুরুতে মেরিন পার্কে গভীর সমুদ্রে ক্যামেরা ট্র্যাকিংয়ে এর ছবি ধরা পড়ে। মাছটিকে আগের চেয়ে আরও গভীর এবং আরও উন্মুক্ত জলসীমায় দেখা গেছে।

বিজ্ঞানীদের ধারণা, মাছটি অগভীর জলের প্রজাতি, যা আশ্রয়হীন বলে ধরা হতো। এটি এখন তাসমানিয়ার দক্ষিণ উপকূলে ১৫০ মিটার গভীরে পাওয়া গেছে। তাসমানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ও প্রধান গবেষক নেভিল ব্যারেট বলেন, গোলাপি হ্যান্ডফিশের জীবনাচরণ নিয়ে এটি একটি আশা জাগানিয়া ও চমৎকার আবিষ্কার। এই প্রজাতির অনেকের অতিরিক্ত ‘হাত’ রয়েছে এবং সাঁতার কাটার পাশাপাশি তারা সমুদ্রের তলদেশে ‘হেঁটে বেড়ায়’।

চলতি বছর ফেব্রুয়ারিতে এই গবেষক ও তার দল তাসমান ফ্র্যাকচার মেরিন পার্কের সমুদ্রতটে প্রবাল, গলদা চিংড়ি এবং মাছের বিভিন্ন প্রজাতির জরিপ করার জন্য একটি টোপযুক্ত ক্যামেরা ফেলেছিলেন। অক্টোবরে ওই ক্যামেরার ফুটেজের মাধ্যমে একজন গবেষণা সহকারী টোপের প্রতি আকৃষ্ট বৃহত্তর প্রাণীদের ভিড়ের মধ্যে অদ্ভুত এই প্রাণীটিকে দেখেন। ইউনিভার্সিটির ইনস্টিটিউট অব অ্যান্টার্কটিক অ্যান্ড মেরিন স্টাডিজের অ্যাশলি বাস্তিয়ানসেন বলেন, আমি আমাদের একটি ভিডিও দেখছিলাম এবং সেখানে একটি ছোট মাছ ওঠে, যা দেখতে কিছুটা অদ্ভুত ছিল।

তিনি এবিসি নিউজকে বলেন, আমি খুব কাছ থেকে তার ছোট্ট ‘হাত’ দেখতে পাই। দেখা যায়, একটি লবস্টার বিরক্ত করায় পাথরের ফাঁক থেকে ১৫ সেন্টিমিটারের একটি মাছটি বেরিয়ে আসে। পরে এটিকে সাঁতার কাটতেও দেখা যায়। অস্ট্রেলিয়ার তাসমানিয়ার উপকূলে এ যাবৎ যে ১৪ প্রজাতির হ্যান্ডফিশ দেখা গেছে, তাদের মধ্যে গোলাপি হ্যান্ডফিশ অন্যতম। অধ্যাপক ব্যারেট বলেন, এখন আমরা নানা ধরনের কৌশল ব্যবহার করতে পেরে এবং এ ধরনের বিরল প্রজাতির জন্য গভীরতর আবাসস্থলগুলো কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা দেখতে পেয়ে বেশ উত্তেজিত।

সূত্র: বিবিসি


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই রকম আরো সংবাদ