রবিবার, ১৬ জুন ২০২৪, ১১:৪০ অপরাহ্ন
সদ্যপ্রাপ্ত খবর :
অটিস্টিক শিশুদের আবাসন ও কর্মসংস্থান করবে সরকার   ||   নারীর প্রতি যৌন ও পারিবারিক সহিংসতা ক্রমাগতই বাড়ছে   ||   শান্তিগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের নব-নির্বাচিত সভাপতি হলেন মৃত্যুঞ্জয়ী ছাত্রনেতা ছদরুল ইসলাম  ||

২১ মাস পলাতক, ২৬ দিনে গ্রেফতার করলো পিবিআই

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি / ৮৩ বার পঠিত:
আপডেট সময় : শুক্রবার, ১ অক্টোবর, ২০২১
২১ মাস পলাতক, ২৬ দিনে গ্রেফতার করলো পিবিআই

চট্টগ্রামের চাঞ্চল্যকর প্রবাসী রায়হানুল ইসলাম ওরফে সজীব (২৭) হত্যা মামলার অন্যতম আসামি আবদুর রহমান ওরফে লাল (২৪)। হত্যাকাণ্ডের পর থেকে দীর্ঘ প্রায় ২১ মাস ধরে পলাতক ছিলেন তিনি। এরই মধ্যে তাকে গ্রেফতার করতে না পেরে হাল ছেড়ে দেয় থানা পুলিশ। আবদুর রহমানকে পলাতক দেখিয়ে মোট ছয় আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেয় থানা পুলিশ। কিন্তু আদালত অভিযোগপত্রটি গ্রহণ না করে মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) আদেশ দেন।

আদালতের আদেশপ্রাপ্ত হয়ে তদন্তের মাত্র ২৬ দিনের মাথায় দীর্ঘ প্রায় ২১ মাস ধরে পালিয়ে থাকা মামলার অন্যতম আসামি আবদুর রহমানকে গ্রেফতার করেন পিবিআই। বৃহস্পতিবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে কর্ণফুলী উপজেলার ডায়মন্ড সিমেন্ট ফ্যাক্টরির পাশে মৌলভীবাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। আবদুর রহমানের গ্রামের বাড়ি কর্ণফুলী উপজেলার শিকলবাহা ৩ নম্বর ওয়ার্ড সিডিএ টেক এলাকায়। তার বাবার নাম অলি আহমেদ। পিবিআই সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ১৭ জানুয়ারি কর্ণফুলী উপজেলা থেকে মুক্তিপণ আদায়ের লক্ষ্যে দুবাই প্রবাসী রায়হানকে অপহরণ করেন আসামিরা। তার দীর্ঘদিনের পরিচিত সুমী নামে এক নারীর মাধ্যমে কৌশলে ফাঁদ পেতে তাকে অপহরণ করা হয়। এরপর তার কাছ থেকে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।

এদিকে রায়হান যাতে চিৎকার করতে না পেরে সেজন্য আসামিরা তার গলায় একটি মাফলার পেঁচিয়ে রাখে। একপর্যায়ে রায়হান মুক্তিপণ দেবে স্বীকার করলে তার গলার মাফলার একটু খুলে দেওয়া হয়। সঙ্গে সঙ্গে রায়হান বাঁচার জন্য চিৎকার দেয়। এতে আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে রায়হানের মরদেহ কর্ণফুলী উপজেলার শিকলবাহা এলাকায় ফেলে চলে যায়। পরদিন ১৮ জানুয়ারি উপজেলার শিকলবাহা এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা আতাউর রহমান ওই দিনই বাদী হয়ে কর্ণফুলী থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলার তদন্ত শেষে গত ২২ জুন কর্ণফুলী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রূপক কান্তি দাশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। অভিযোগপত্রে তিনি হত্যাকাণ্ডে মোট আটজন জড়িত থাকার তথ্য পাওয়ার কথা জানান। কিন্তু এদের মধ্যে দুই আসামির নাম-ঠিকানা শনাক্ত করা সম্ভব না হওয়ায় তাদেরকে অভিযোগের দায় থেকে অব্যাহতির আবেদন করা হয়। একই সঙ্গে অভিযোগপত্রে এক আসামিকে পলাতক উল্লেখ করে মোট ছয়জনের নাম উল্লেখ করেন।

কিন্তু আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ না করে মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দেন। আদালতের আদেশপ্রাপ্ত হয়ে পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর পুলিশ সুপার নাইমা সুলতানা ইউনিটটির উপ-পরিদর্শক (এসআই) জাহেদুজ্জামান চৌধুরীকে তদন্তভার দেন৷ পিবিআই কর্মকর্তা জাহেদুজ্জামান গত ৪ সেপ্টেম্বর মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে গত বৃহস্পতিবার পলাতক আসামি আবদুর রহমানকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হন। পিবিআই কর্মকর্তা ও এসআই জাহেদুজ্জামান জাগো নিউজকে বলেন, রায়হান হত্যা মামলার অন্যতম আসামি আবদুর রহমান দীর্ঘ প্রায় ২১ মাস পলাতক ছিলেন। মামলার তদন্তভার পেয়ে তার বিষয়ে খোঁজ-খবর নিই। অবশেষে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে কর্ণফুলী উপজেলা থেকে তাকে গ্রেফতার করি। আজ (শুক্রবার) তাকে রায়হান হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই রকম আরো সংবাদ