শুক্রবার, ২১ জুন ২০২৪, ০৬:৪৫ পূর্বাহ্ন
সদ্যপ্রাপ্ত খবর :
অটিস্টিক শিশুদের আবাসন ও কর্মসংস্থান করবে সরকার   ||   নারীর প্রতি যৌন ও পারিবারিক সহিংসতা ক্রমাগতই বাড়ছে   ||   শান্তিগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের নব-নির্বাচিত সভাপতি হলেন মৃত্যুঞ্জয়ী ছাত্রনেতা ছদরুল ইসলাম  ||

বেরোবি অর্থনীতি বিভাগের প্রধানের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক / ৪৯৩ বার পঠিত:
আপডেট সময় : শনিবার, ২০ নভেম্বর, ২০২১
বেরোবি অর্থনীতি বিভাগের প্রধানের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) অর্থনীতি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান জনি পারভীনের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ এনেছেন করে তার বিভাগের শিক্ষকরা। তারা জনি পারভীনকে বিভাগীয় প্রধান পদ থেকে অপসরণ ও শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পদত্যাগ ও শাস্তির দাবিতে বৃহস্পতিবার (১৮ নভেম্বর) বিকেলে রেজিস্ট্রার বরাবর অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন শিক্ষকরা। অভিযোগপত্রে অর্থনীতি বিভাগের বেশিরভাগ শিক্ষকের সই রয়েছে।

অভিযোগপত্রে শিক্ষকরা উল্লেখ করেন, অর্থনীতি বিভাগ সেশনজটমুক্ত ও আইকিউএসি রেটিংয়ে প্রথম স্থানপ্রাপ্ত বিভাগ ছিল। কিন্তু জনি পারভীন বিভাগীয় প্রধান হওয়ার পর থেকে লাগাতার অনুপস্থিত থাকছেন। করোনাকালীন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে অনলাইনে ক্লাস চালু করলেও তিনি এক বছর সাত মাসেও কোনো একাডেমিক সভা আহ্বান এবং শিক্ষকদের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা করেননি। ফলে বিভাগের শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ সেশনজটে পড়েছে।

বিভাগের শিক্ষকদের অভিযোগ, একাডেমিক সভায় অন্য শিক্ষককে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করেন জনি পারভীন। কারো পরামর্শ না নিয়ে নিজের মতকে সবার ওপর চাপিয়ে দেন। বিভাগের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীদের সঙ্গে সবসময় অমানবিক আচরণ করেন, যা বিভাগের পরিবেশ ও শৃঙ্খলা নষ্ট করছে।

শিক্ষকরা আরও উল্লেখ করে বলেন, জনি পারভীন একাডেমিক কমিটির প্রথম সভায় বিভাগের প্ল্যানিং কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে সভার সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে শিক্ষকদের বাদ দিয়ে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন হিসেবে উপাচার্যকে অন্তর্ভুক্ত করেন। কমিটি নিয়মের বহির্ভুত হওয়ায় বিভাগের অধ্যাপক ড. মোরশেদ হোসেন পদত্যাগ করেন। অনুপস্থিতির কারণে তার ডেস্কে বিভিন্ন আবেদনপত্র ও জরুরি কাগজপত্র আটকে থাকছে।

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, জনি পারভীন অর্থনীতি বিভাগ পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার ও বিভাগের অন্যান্যদের হয়রানি করছেন। এ অবস্থায় দায়িত্ব থেকে অপসারণ ও শাস্তির আবেদন জানিয়ে সাতদিনের সময় বেঁধে দিয়েছেন শিক্ষকরা। অভিযোগপত্রে বিভাগের অধ্যাপক ড. মোরশেদ হোসেন, সহকারী অধ্যাপক খন্দকার জাহাঙ্গীর আলম, সহকারী অধ্যাপক শাফিউল ইসলাম, সহকারী অধ্যাপক হাবিবুর রহমান, সহকারী অধ্যাপক বেলাল উদ্দীন ও প্রভাষক কাজী নেওয়াজ মোস্তফার সই রয়েছে।

তবে অভিযোগের বিষয় অস্বীকার করে বিভাগীয় প্রধান জনি পারভীন জাগো নিউজকে বলেন, আমি নিজে দায়িত্ব নিয়ে বিভাগের সব পরীক্ষা নিয়েছি। বিভাগে না থাকার উদাহরণ নেই। কেউ বলতে পারবে না যে আমি বিভাগে অনুপস্থিত থাকি। আমি সার্বক্ষণিক বিভাগে উপস্থিত থাকি। তিনি আরও বলেন, আমার অনুপস্থিতির জন্য বিভাগের একাডেমিক কোনো কাজে সমস্যা সৃষ্টি হয়নি। বিভাগে শিক্ষকরা এর আগে আমার সঙ্গে অসদাচরণ করায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে রেখেছি।

শিক্ষকদের আপগ্রেডেশনের বিষয়ে বিভাগীয় প্রধান বলেন, প্রমোশনের জন্য আমি কারো কাগজ আটকে রাখিনি। বিভাগের কিছু শিক্ষক অ্যাডহকে যোগদান করেছেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে এর কোনো প্রমোশন নীতিমালা উল্লেখ নেই। যে কারণে আমি সুপারিশ করতে পারিনি। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার আবু হেনা মোস্তফা কামাল জাগো নিউজকে বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি এখন ঢাকায় অবস্থান করছি। ক্যাম্পাসে গিয়ে এ বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই রকম আরো সংবাদ