শুক্রবার, ২১ জুন ২০২৪, ১০:২৬ পূর্বাহ্ন
সদ্যপ্রাপ্ত খবর :
অটিস্টিক শিশুদের আবাসন ও কর্মসংস্থান করবে সরকার   ||   নারীর প্রতি যৌন ও পারিবারিক সহিংসতা ক্রমাগতই বাড়ছে   ||   শান্তিগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের নব-নির্বাচিত সভাপতি হলেন মৃত্যুঞ্জয়ী ছাত্রনেতা ছদরুল ইসলাম  ||

“টিকটক-Tiktok” যখন যুবক-যুবতীর নৈতিক অবক্ষয়ের কারণ!

মো:শাহীন আলম সানী / ৮০৯ বার পঠিত:
আপডেট সময় : শুক্রবার, ২৭ আগস্ট, ২০২১
"টিকটক-Tiktok" যখন যুবক-যুবতীর নৈতিক অবক্ষয়ের কারণ!

টিকটক অ্যাপস বর্তমান বিশ্বে বহুল আলোচিত এবং সমালোচিত একটি অ্যাপ। টিকটক অ্যাপস চেনেন না এমন মানুষ খুবই কম আছেন। শিক্ষিত থেকে শুরু করে অর্ধ শিক্ষিত কিংবা একেবারেই শিক্ষাদীক্ষা নেই তারাও ভালো করে চেনেন টিকটক অ্যাপ।বর্তমান বিশ্বে অনেক মানুষের ভালোলাগার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এই অ্যাপসটি। বিশেষ করে করুণা প্যানডেমিক শুরু হওয়ার পর থেকে মানুষ ঘরে বসে বসে টিকটকের ভিডিও দেখে সেখান থেকে ভিডিও তৈরী করার মূল প্রবণতা তৈরি হয়েছে।কিছু মানুষ প্রফেশন হিসেবে টিকটককেই বেছে নিয়েছেন। যেখান থেকে তারা তাদের রুটি-রুজির বন্দোবস্ত করছেন বিভিন্ন উপায়ে। যার দরুন ফেসবুক বা মেসেঞ্জারকে পেছনে ফেলে টিকটক বর্তমানে ২০২০ সালের গুগলের রেংকিং অনুযায়ী ডাউনলোডের দিক থেকে সবথেকে প্রথম পজিশনে রয়েছে।

টিকটকের ব্যবহার; টিকটকের ব্যবহার হয় মূলত তিনটা সেকশনে শর্ট ভিডিও, মিডল শর্ট এবং লং শর্ট ভিডিও। এই তিনটা সেকশনে কনটেন্ট তৈরি করা হয় টিকটকে! যেখানে গান কিংবা লিরিক্সের আদলে অঙ্গভঙ্গি করে কিংবা দুই ঠোঁট মিলিয়ে বা ফটো দিয়ে মানুষ টিকটকে কনটেন্ট তৈরি করে থাকেন।যেই কনটেন্ট গুলো দেখে শত শত মানুষ কন্টেন্ট ক্রিয়েটরের ফলোয়ার হয়ে তাকে ফলো করেন। গুগলের একটি জরিপ অনুযায়ী টিকটকের ব্যবহারকারী বেশিরভাগ টিন এইজের এবং উঠতি বয়সী তরুণ-তরুণী।

প্রথমে মানুষ এই অ্যাপসটিকে বেশি না চিনলেও যখন বিভিন্ন দেশে এই অ্যাপসকে নিয়ে সোস্যাল সাইডএফেক্ট তৈরি হয় ! সরকার সেই কারণে তাৎক্ষণিক বন্ধ করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন!ঠিক সেই সময় থেকে মানুষ এই অ্যাপসকে আরো বেশি চিনতে শুরু করেন।

টিকটকের অপব্যবহার যখন সমস্ত বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশেও শুরু হয়েছে,ঠিক সেই মুহূর্তে সরকার উদ্যোগ গ্রহণ করেন টিকটক বন্ধ করার জন্য। একই সময়ে টিকটকের যারা পলিসী মেকার অথরিটি তারা কিছু টাকা বোনাস দিয়ে এর ব্যবহারকারীর সংখ্যা আরো বাড়ানোর পলিসী করেন, টিকটক কর্তৃপক্ষ সেই পলিসী মেকিংয়ে সাকসেসফুল ও হয়েছেন। দেখা গেছে এই বোনাস বাড়ানোর কারণে বাংলাদেশে তাদের ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় তিন গুণ বেড়েছে।

এবার প্রশ্ন আসে এটাতো একটি সামাজিক বিনোদনের জায়গা মাত্র। তাহলে এটা নিয়ে এত বিতর্ক কেন? এত প্রশ্ন কেন? এবার আসি মূল কথায়। যখন একটি দেশে সামাজিকতার এবং সংস্কৃতির চর্চা করা হয়,তখন সেই দেশের সংস্কৃতির সাথে তাল মিলিয়ে আপনি অনলাইনেও সেটার ব্যালেন্স রাখতে হবে। সেটা হোক ফেসবুক সেটা হোক ইনস্টাগ্রাম কিংবা টিকটক! সেখানে আপনি আপনার সামাজিকতার দায়বদ্ধতা থেকে শালীনতা বজায় রাখতেই হবে। যখন আপনি এই সামাজিকতার তোয়াক্কা না করে ভাইরাল হওয়ার ধান্দায় যা ইচ্ছে তাই করে যাচ্ছেন! তখন আর সেটা শালীন থাকে না। সেটা হয়ে যায় অশ্লীল। বর্তমানে বাংলাদেশের বেশিরভাগ তরুণ-তরুণী এই অশ্লীল কনটেন্ট করে ভাইরাল হওয়ার ধান্দায় মরীচিকার পেছনে ছুটে ক্যারিয়ার নষ্ট করছেন।অথচ তারা নিজেরাই সেই বিষয়ে বেখেয়াল।

আমার আশ্চর্য লাগে যখন দেখি কোনো সরকারি কর্মচারী বা কর্মকর্তা তাদে ইউনিফর্ম পরিহিত অবস্থায়, ডাক্তার কিংবা বড় বড় শিক্ষিত মানুষ, তাদের শরীর প্রদর্শন করে বিভিন্ন অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করে ভিডিও তৈরী করেন! তখন মনে প্রশ্ন জাগে আসলেই কি তারা মৌলিক শিক্ষাগুলো তাদের পরিবার কিংবা পাঠশালায় পেয়েছিলেন? তারা আসলে কী শিখেছিলেন ? আদৌ কী কিছু শিখেছেন? যারা ভালো মন্দের পার্থক্যটা বুঝে না! তারা জাতিকে কী দেবেন? তারা আসলে জাতিকে এই টিকটকের অশ্লীল অঙ্গভঙ্গির ভিডিও ছাড়া আর কিছুই দিতে পারেন না।

এমন না যে টিকটক ব্যবহার করে মানুষ ভালো কিছু করছে না! উদাহরণ হিসেবে ধরতে পারি টেন মিনিট স্কুলের সিও আয়মান সাদিক মানুষকে বিভিন্ন জিনিস শিখিয়ে যাচ্ছেন।তিনি ভালো কাজ করছেন। এরকম আরো বহু মানুষের উদাহরণ আছে যারা প্রতিনিয়ত ভালো কাজ করে যাচ্ছেন এবং সেগুলো ছড়িয়ে দিচ্ছেন এবং মানুষ এখান থেকে কিছু শিখতে পারছে। সেখান থেকে মানুষ উপকৃত হচ্ছে এবং বিভিন্ন সেক্টরে এর বড় একটি ভাল প্রভাব পরছে।

কিন্তু যারা উঠতি বয়সের তরুণ-তরুণী ভাইরাল কিংবা ফেমাস হওয়ার মিথ্যে মরীচিকার পরে এই বিভিন্ন অশ্লীল কনটেন্ট তৈরি করছেন সামাজিকতার তোয়াক্কা না করে,পরিবারের তোয়াক্কা না করে, তারা আসলেই কী কোন সুস্থ সামাজিক সংস্কৃতির চর্চা করছেন একবার ভেবে দেখবেন? এই শরীর প্রদর্শনী অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি শালীনতার পর্যায়ে পরে নাকি অশ্লীলতার পর্যায়ে পরে? আপনারাই বিবেচনা করবেন!

অনেক পরিবারের মানুষ আছে যারা তাদের সন্তানদের একটি সুস্থ শালীন জায়গা রেখে কষ্ট করে বড় করেছেন। কিন্তু সে তার বন্ধুদের দেখে নিজে টিকটককে অপব্যবহার করে নিজেকে প্রতিনিয়ত সমাজে খারাপ ভাবে উপস্থাপন করছে। এই খারাপ কাজগুলো আদৌ কি তার বাবা-মায়ের সম্মান বয়ে আনবে? যেমনটা বাবা মা তাদের সন্তানের কাছে কোনদিনও আশা করেননি।

আমরা ইতিমধ্যে বিভিন্ন স্যাটেলাইট টেলিভিশনে দেখেছি টিকটক ব্যবহার করে অনেকেই দেহ ব্যবসার সাথে জড়িত হয়ে গেছে! তাদেরকে প্রতিনিয়ত পুলিশ গ্রেপ্তার করে জেলে পাঠাচ্ছে। আপনি সেই দিকেই যে যাচ্ছেন না তার গ্যারান্টি কে দেবে? একটি জিনিসের যেমন ভালো দিক আছে তেমনি খারাপ দিকও আছে। বাংলাদেশের সংস্কৃতির সাথে যায়না এমন কিছু করা মানেই হলো অপরাধ। আপনার স্বাধীনতা আছে বলে তার মানে এই নয় যে, আপনি আরো দশ জনকে খারাপ বানাবেন। আপনি কাউকে ভালো কিছু দিতে না পারেন। অন্তত খারাপ কিছু উপহার দেওয়া আপনার মোটেও ঠিক নয়।

ইতিমধ্যে বাংলাদেশ সরকার এক জরিপ করে দেখেছে বাংলাদেশে টিকটক এর ব্যবহারের চাইতে অপব্যবহার বেশী হয়। সে কারণে সরকার টিকটক অ্যাপস বন্ধ করার কথা ভাবছে। মূল বিষয় এটা নয় টিকটক বন্ধ করলেই যে সমাজ সংস্করণ হয়ে যাবে সেটা কিন্তু ঠিক নয়। যদি আপনি নিজে ঠিক না হন,যদি সরকার হাজার বারও টিকটক বন্ধ করে তাহলে কোন লাভে আসবেনা।

তাই আমাদের এখন সবথেকে বড় প্রয়োজন হলো সুস্থ বিনোদন চর্চা করা। সেটা অনলাইনে কিংবা অফ লাইনে যে কোন প্লাটফর্মে হোকনা কেন। ভাইরাল অনেক মানুষই হয় সেটা তার কর্ম দিয়ে বিভিন্ন ভালো কাজ করে হয়েছে। কষ্ট করে ভাইরাল হলে সেটা আজীবন টেকসই হয় যেমন; সাকিব আল হাসান। সস্তাভাবে ভাইরাল হলে সেটা বেশিদিন টেকসই হয় না,সেই সস্তা ভাইরালের অকালেই মৃত্যু হয়। তার সাথে মারা যায় অনেক যুবক-যুবতীর মরীচিকার পেছনের স্বপ্নগুলির।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই রকম আরো সংবাদ