শুক্রবার, ২১ জুন ২০২৪, ০৮:১৮ পূর্বাহ্ন
সদ্যপ্রাপ্ত খবর :
অটিস্টিক শিশুদের আবাসন ও কর্মসংস্থান করবে সরকার   ||   নারীর প্রতি যৌন ও পারিবারিক সহিংসতা ক্রমাগতই বাড়ছে   ||   শান্তিগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের নব-নির্বাচিত সভাপতি হলেন মৃত্যুঞ্জয়ী ছাত্রনেতা ছদরুল ইসলাম  ||

খোকা থেকে বাংলাদেশ সৃষ্টির মহানায়ক বঙ্গবন্ধু

সম্পাদকীয় ডেস্ক / ৪৪৯ বার পঠিত:
আপডেট সময় : বুধবার, ১৭ মার্চ, ২০২১
খোকা থেকে বাংলাদেশ সৃষ্টির মহানায়ক বঙ্গবন্ধু

গাজী সারোয়ার হোসেন বাবু

গোপালগঞ্জের অজপাড়া গাঁ টুঙ্গিপাড়ার এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। নাম তার ডাকনাম খোকা। শিশু থেকে দুরন্ত কৈশোর। মধুমতি নদীতে সাঁতার কেটে টগবগে যুবকে পরিণত হয় খোকা। যিনি ধীরে ধীরে হয়ে উঠেছিলেন বাঙালির ‘মুজিব ভাই’ এবং ‘বঙ্গবন্ধু’। তাঁর হাত ধরেই আসে বাঙালির স্বাধীনতা, জন্ম নেয় বাংলাদেশ। এর মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু হয়ে ওঠেন বাংলাদেশ সৃষ্টির মহানায়ক। মার্চ হচ্ছে একটি ঐতিহাসিক মাস। এই মাসেই তিনি জাতিকে মুক্তির স্বপ্ন দেখিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঐতিহাসিক ভাষণ দেন। এ মাসেই তিনি নিজেদের একটি স্বাধীন ভূখণ্ডের জন্য স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ তদানীন্তন ফরিদপুর মহকুমার গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় শেখ লুৎফর রহমান এবং মাতা সায়েরা খাতুনের ঘর আলোকিত করে জন্মগ্রহণ করেন শেখ মুজিবুর রহমান।

২০১৩ সাল থেকে সরকার এই দিনটিকে জাতীয় শিশু দিবস হিসেবে পালন করছে। এর আগে ১৯৯৬ সালে প্রথমবার এই দিনটিকে জাতীয় শিশু দিবস ঘোষণা করা হয়েছিল। গত বছর মহান স্বাধীনতার স্থপতি হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ এই বাঙালির জন্মশতবর্ষ স্মরণীয় করে রাখতে ‘মুজিব শতবর্ষ’ পালনের সিদ্ধান্ত নেয় আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার। ২০২০ সালের ১৭ মার্চ জাতির পিতার জন্মদিন থেকে শতবর্ষের বছরব্যাপী অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হওয়ার তারিখ নির্ধারিত ছিল। অনুষ্ঠান চলার সময় নির্ধারিত ছিল ২০২১ সালের ২৬ মার্চ, অর্থাৎ স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর তারিখ পর্যন্ত। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে পরিকল্পিত উপায়ে মুজিব শতবর্ষের উদ্বোধন অনুষ্ঠানসহ বড় অনুষ্ঠানগুলো হয়নি। সে কারণে মুজিব শতবর্ষের মেয়াদ বাড়িয়ে চলতি বছরের ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়েছে। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৫৮ সালের সামরিক শাসন বিরোধী আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ৬ দফা ও পরে ১১ দফা আন্দোলন এবং ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থানসহ প্রতিটি গণতান্ত্রিক ও স্বাধিকার আন্দোলনে শেখ মুজিবুর রহমান নেতৃত্ব দেন। বাংলার এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে ছুটে বেড়িয়েছেন তিনি। প্রতিটি বাঙালির কাছে পৌঁছে দিয়েছেন পরাধীনতার শিকল ভাঙার মন্ত্র। এর ভেতর দিয়ে তিনি আবির্ভূত হলেন বাঙালি জাতির মহানায়ক।

শেখ মুজিবুর রহমানকে তার কাছের সবাই ডাকতেন মুজিব ভাই বলে। এ নামেই তিনি পরিচিত ছিলেন বন্ধু, নেতা, কর্মী সবার কাছে। ১৯৬৮ সালের আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় কারাবরণ করেন তিনি। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা থেকে মুক্তি পাবার পরদিন ২৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ সালে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে প্রায় ১০ লাখ লোকের এক বিশাল জনসভায় ছাত্রনেতা তোফায়েল আহমদ তাকে বঙ্গবন্ধু উপাধিতে ভূষিত করেন। বঙ্গবন্ধু মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা সংগ্রাম ও অন্যান্য আন্দোলন করতে গিয়ে বার বার জেল খেটেছেন। এমনকি তাকে ফাঁসির মঞ্চে নিয়েও মারতে পারেনি পাকিস্তানিরা। বাঙালি জাতি ও বিশ্ববাসীর চাপে কারাগার থেকে তাকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয় পাকিস্তানিরা। সেই নেতা, সেই পিতা, সেই মহানায়ককে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করেন। তবে বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে বাংলাদেশ বিশ্বের কয়েকটি দেশের মধ্যে অবস্থান করতো। কারণ বঙ্গবন্ধুর ডাইনামিক নেতৃত্ব, চিন্তাধারা দেশ ও জাতির কল্যাণে খুবই কার্যকর ছিল। মাত্র অল্প সময়ে তিনি বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে তুলে ধরেন।

স্কুলের ছাত্রত্বকালীন বঙ্গবন্ধু দরিদ্র শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। মুষ্টি ভিক্ষার চাল উঠিয়ে গরিব ছেলেদের বই এবং পরীক্ষার খরচ বহন করা, বস্ত্রহীন পথচারী শিশুকে নিজের নতুন জামা পরিয়ে দিতেও তিনি কার্পণ্য করতেন না। সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের দায়িত্ব নেয়ার মতো মহৎ গুণ শক্তভাবেই ধারণ করেছিলেন সেই শৈশবেই। ১৯৪৩ সালে দুর্ভিক্ষ শুরু হলে সারা দেশে ভয়াবহ অবস্থা সৃষ্টি হয়। অসমাপ্ত আত্মজীবনীতে বঙ্গবন্ধু বলেন, ‘দিন রাত রিলিফের কাজ করে কুল পাই না। লেখাপড়া মোটেই করি না। কলকতা যাব, পরীক্ষাও নিকটবর্তী। আব্বা একদিন আমাকে ডেকে বললেন। বাবা রাজনীতি কর, আপত্তি করব না, পাকিস্তানের জন্য সংগ্রাম করছ, এতো সুখের কথা। আব্বার এ কথা কোনোদিন আমি ভুলি না।’ সেদিন থেকে তিনি আর শেখ মুজিব বা নেতা-কর্মীদের মুজিব ভাই নন। বাঙালির প্রাণের নেতা বঙ্গবন্ধু। একটি মানুষ সংগঠনের জন্য এত ত্যাগ স্বীকার করতে পারে সেটা ভাবাই যায় না। বঙ্গবন্ধুর বাবা তাকে বলেছিলেন তিনি চাইলে বিলেতে গিয়ে লেখাপড়া করতে পারবেন। কিন্তু তিনি যাননি।

১৯৫৬ সালে বঙ্গবন্ধু প্রাদেশিক সরকারের মন্ত্রী হয়েছিলেন। কিন্তু মন্ত্রিত্ব ছেড়ে সংগঠনের দায়িত্ব নিয়েছিলেন। সত্তরের নির্বাচনের আগেই বঙ্গবন্ধু লন্ডনে বসে মুক্তিযুদ্ধের সব প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। তিনি জানতেন এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিজয়ী হবে কিন্তু ক্ষমতা দেবে না পকিস্তানি শাসকরা। প্রবাসীদের সহায়তায় লন্ডনে বসেই সশস্ত্র যুদ্ধের সব কৌশল ও পরিকল্পনা করেন। সবাইকে যুদ্ধের জন্য প্রস্তত থাকতে নির্দেশ দেন। নির্বাচনের পরে ঠিক তাই হলো। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ, বাঙালি জাতির জন্য এক ঐতিহাসিক দিন। এদিন রেসকোর্স ময়দানে শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতা সংগ্রামে অবতীর্ণ হবার আহ্বান জানান। এদিন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষণা করেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম; এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম’ একটানা নয় মাস চলে যুদ্ধ। নয় মাসের যুদ্ধের পর পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর রেসকোর্স ময়দানে আত্মসমর্পণ করে। ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে স্বাধীন মাতৃভূমিতে ফিরে আসেন জাতির জনক।

লেখক : সাংগঠনিক সম্পাদক, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী যুবলীগ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই রকম আরো সংবাদ