শুক্রবার, ২১ জুন ২০২৪, ০৮:২৭ পূর্বাহ্ন
সদ্যপ্রাপ্ত খবর :
অটিস্টিক শিশুদের আবাসন ও কর্মসংস্থান করবে সরকার   ||   নারীর প্রতি যৌন ও পারিবারিক সহিংসতা ক্রমাগতই বাড়ছে   ||   শান্তিগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের নব-নির্বাচিত সভাপতি হলেন মৃত্যুঞ্জয়ী ছাত্রনেতা ছদরুল ইসলাম  ||

ওমানে বাংলাদেশি যুবকের আত্মহত্যা, নেপথ্যে কী?

মীর মাহফুজ আনাম, মাস্কাট (ওমান) / ২০৬ বার পঠিত:
আপডেট সময় : বুধবার, ২৪ মার্চ, ২০২১
ওমানে বাংলাদেশি যুবকের আত্মহত্যা, নেপথ্যে কী?

ওমানের রাজধানী মাস্কাটে বাংলাদেশি এক যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। গত রোববার (২১ মার্চ) বিকেল ৩টায় পুলিশ মাস্কাটের সিভ বাজারের বাসা থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে। মারা যাওয়া ওই যুবকের নাম মোহাম্মদ মনজুরুল আলম (২৫)। তিনি চট্টগ্রামের হাটহাজারীর উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের হাজির পুকুর পাড়ের আলী আহমদের ছেলে। সিভ বাজারের বাংলাদেশিরা জানান, সেখানকার মোজাম্মেলের হার্ডওয়্যার দোকানে চাকরি করতেন মনজুরুল। একই উপজেলার উত্তর মাদার্শার বাসিন্দা মোজাম্মেল ভিসার টাকা বাকিতে মনজুরুলকে দেড় বছর আগে ওমানে নিয়ে আসেন।

মনজুরুলের মা হোসনে আরা মোবাইল ফোনে জাগো নিউজের কাছে অভিযোগ করেন, তার ছেলেকে সকাল ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত দোকানে ডিউটি করাতেন মোজাম্মেল। দুপুরের খাবার খাওয়ার জন্য সামান্য সময় দিলেও আবারও দোকানে চলে যেতে হতো তাকে। রাতে থাকার জন্য তার রুম দিয়েছিলেন দোকানের গোডাউন। ওই গোডাউনে প্রবেশের পর বাইরে থেকে তালাবন্ধ করে দেয়া হতো মনজুরুলকে। দোকান আর গোডাউন ছাড়া কখনো বাইরে যাওয়ার সুযোগ ছিল না মনজুরুলের। মনজুরুলের মা বলেন, ‘ভিসার টাকা কাটছে বলে ঠিকমত বেতনও দেয়া হতো না। মাঝে মধ্যে অল্প কিছু টাকা দিত। বারবার দেশে চলে আসার জন্য কাঁদতো মনজুরুল। আমি বলতাম, কোনোভাবে দুই বছর ধৈর্য ধরে থাক।’

মনজুরুলের একটি ফোনালাপ রেকর্ড প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। যেখানে এক বন্ধুর কাছে তার কষ্টের কথা বলতে শোনা যায় মনজুরুলকে। এমনকি তার খাবারের টাকাও নেই বলার পরও দোকানের মালিক তাকে বেতন দিচ্ছেন না জানিয়ে সেই আক্ষেপ করছিলেন মনজুরুল। ওমানে বসবাসকারী মনজুরুলের বন্ধু দিদার বলেন, ‘মারা যাওয়ার একদিন আগেও তার সঙ্গে আমার কথা হয়। সে তার কষ্টের কথা আমাকে বলতো। এমনও দিন গেছে সকালে নাস্তা করার টাকাও তাকে দেয়া হত না। না খেয়ে চাকরি করেছে সে। দেশে চলে যেতে চাইলে বলা হত, ‘ভিসার সব টাকা আর বিমানভাড়া দে তারপর যেতে পারবি’। আমার বন্ধুকে মানসিক অত্যাচার করে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করা হয়েছে।’

এসব বিষয়ে জানতে দোকানের মালিক মোজাম্মেলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। দোকানে থাকা তার ছেলে মোশারফের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বাবা দেশে গেছেন। মৃত্যুর খবরটি শোনার পর তিনি ওমানে আসছেন বলে জানিয়েছেন। তারপর থেকে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।’ অবশ্য একটি সূত্র জানায়, তিনি মোজাম্মেল গতকালই ওমানে এসেছেন। বর্তমানে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন। মনজুরুলের আত্মহত্যার বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। এদিকে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে নিয়ে যায়। সেখানে করোনার নমুনা সংগ্রহ করলে তার রিপোর্ট পজিটিভ আসে। ওমান সরকারের নতুন নিয়ম অনুযায়ী, মরদেহে করোনা শনাক্ত হলে দূতাবাসকে অবহিত করে পরিবারের সম্মতির অপেক্ষা না করে সঙ্গে সঙ্গে দাফন করা হয়। মঙ্গলবারই (২৩ মার্চ) আমরাত কবরস্থান প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে তার মরদেহ দাফন করা হয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই রকম আরো সংবাদ